সৎ ব্যবসায়ীর সোনার বাটি: জাতকের শিক্ষা
Folklore

সৎ ব্যবসায়ীর সোনার বাটি: জাতকের শিক্ষা

দুই ব্যবসায়ীর কাহিনি, যেখানে এক সৎ ব্যবসায়ী তার সততার জন্য অমূল্য পুরস্কার পায়। গল্পটি শিশুদের সততা, বিশ্বাস এবং ন্যায়বিচার শেখায়।

by Storiyaa Editorial

Reviews

About This Story

Story Transcript

অনেক বছর আগে, এক শান্ত ও সমৃদ্ধ ছোট্ট গ্রামে বাস করতেন এক বৃদ্ধা নারী। তার দিন চলে যেত ছোট্ট একটি দোকান সামলিয়ে। জীবন ছিল সরল, তবে তার একটি মাত্র স্মৃতিচিহ্ন ছিল, যা তার স্বামী রেখে গিয়েছিলেন—একটি পুরনো, মলিন, কিন্তু ভারী বাটি। বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন দুই ভিন্ন মনের ব্যবসায়ী। একজন ছিলেন ধূর্ত, অন্যজন সৎ ও সদয়। তারা দুজনেই গ্রামে পসরা নিয়ে আসতেন—বিভিন্ন ধরণের হাঁড়ি-পাতিল, খেলনা, অলংকার। একদিন গ্রামের সবাই বাজারে ব্যস্ত। সেদিন বৃদ্ধা বাটিটি হাতের কাছে রেখে দোকান সামলাচ্ছিলেন। প্রথমে এলেন ধূর্ত ব্যবসায়ী। তিনি দোকানের জিনিসপত্র দেখছিলেন, এমন সময় তার চোখে পড়ে বাটিটি। তিনি বাটিটি হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখলেন, বুঝতে পারলেন এটি খাঁটি সোনার তৈরি। কিন্তু বৃদ্ধা জানতেন না বাটির প্রকৃত মূল্য। ধূর্ত ব্যবসায়ী দৃষ্টিতে এক প্রকার লোভ দেখিয়ে বললেন, “মা, এই পুরনো বাটির কোনো দাম নেই। তুমি চাইলে আমার কাছ থেকে একজোড়া মাটির হাঁড়ি নিতে পারো।” বৃদ্ধা একটু আশ্চর্য হলেন, তারপর বললেন, “এটি আমার স্বামীর স্মৃতি। কোনো কাজের না হলেও আমার কাছে অনেক মূল্যবান।” ব্যবসায়ী কিছুক্ষণ কৌশল করলেও বৃদ্ধা রাজি হলেন না। তিনি হতাশ হয়ে চলে গেলেন। দুপুরের দিকে এলেন দ্বিতীয় ব্যবসায়ী, যিনি পরিচিত ছিলেন সততার জন্য। দোকানে ঢুকে হাসিমুখে বললেন, “মা, কিছু দরকার হলে বলো। আমার কাছে নানারকম জিনিস আছে।” বৃদ্ধা জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার কাছে কি ভালো মাটির কলসি আছে? আমারটা ফেটে গেছে।” ব্যবসায়ী কলসি বের করে দেখালেন। বৃদ্ধা বললেন, “তুমি তো জানো আমি গরীব, অনেক দাম দিতে পারবো না।” ব্যবসায়ী হেসে বললেন, “মা, আমার কাছ থেকে তুমি যা চাও তাই নাও। আমি তোমার জন্য দাম কমিয়ে দেব।” বৃদ্ধা নিজের পুরনো বাটিটি দেখিয়ে বললেন, “আমার কাছে এই পুরনো বাটি আছে। এর বদলে কি একটি কলসি পেতে পারি?” সত্ ব্যবসায়ী বাটিটি হাতে নিয়ে ভালো করে পরীক্ষা করলেন। তিনি অবাক হয়ে বুঝতে পারলেন, এটি সোনার। তিনি মনে মনে ভাবলেন, “বৃদ্ধা নিশ্চয়ই জানেন না এর প্রকৃত মূল্য।” তিনি বৃদ্ধার দিকে ফিরে বললেন, “মা, এই বাটির দাম হাজারগুণ বেশি। শুধু কলসি নয়, তুমি চাইলে আমার দোকান থেকে আরও জিনিস নিতে পারো।” বৃদ্ধা বিস্মিত হলেন, “তুমি কি সত্যি বলছো? এত মূল্যবান এটা?” সত্ ব্যবসায়ী বললেন, “হ্যাঁ মা, এটা সোনার তৈরি। আমি তোমার সঙ্গে প্রতারণা করতে পারি না।” তিনি বৃদ্ধার হাতে যথার্থ দাম গুনে দিলেন, সাথে বিনা মূল্যে আরও কয়েকটি দরকারি জিনিস তুলে দিলেন। বৃদ্ধা আনন্দে আপ্লুত হয়ে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন। পরদিন গ্রামের সবাই শুনল সত্ ব্যবসায়ীর খবর। ধূর্ত ব্যবসায়ী খবর পেয়ে দুঃখে কাঁদছিলেন। তিনি বললেন, “আমি যদি সত্ থাকতাম, আজ আমারই এই পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল।” সত্ ব্যবসায়ী বিনয়ের সাথে বললেন, “সততা সবসময় পুরস্কৃত হয়, আর সত্যকে কখনো ঢেকে রাখা যায় না।” গ্রামের শিশু-কিশোররা গল্পটি মনে রাখল। তারা বুঝল, “লোভ ও ঠকবাজিতে কখনো সত্যিকারের লাভ হয় না। ন্যায় ও সততা শেষে সবসময় জয়ী হয়।” এই গল্প আমাদের শেখায়, “সততা ও ন্যায়বিচার শেষ পর্যন্ত প্রতিদান দেয়, আর মিথ্যার ফল কখনোই মঙ্গল বয়ে আনে না।”