কষ্টসাধ্য জ্ঞান নিয়ে আসা এক গর্বিত পণ্ডিতকে তেনালি রাম সহজ হাস্যরস ও বুদ্ধিতে হারিয়ে দেন, শেখান বিনয় ছাড়া জ্ঞান অপূর্ণ।
0 PLAYS
0.0
by Storiyaa Editorial
About This Story
Story Transcript
বিজয়নগরের রাজসভা ছিল জ্ঞান, বিচার ও হাস্যরসের আকর। রাজা কৃষ্ণদেব রায় প্রতিদিন সভায় আসতেন নানা পণ্ডিত, গুণী আর মজার মানুষের ভিড়ে। সেই সভার একজন ছিলেন তেনালি রাম—অপ্রতিদ্বন্দ্বী বুদ্ধিমান, যার রসিকতা শুনে সবাই হেসে কুটি কুটি হতেন।
একদিন সকালে রাজসভায় প্রবেশ করলেন এক অপরিচিত পণ্ডিত। তাঁর গায়ে জড়ানো ছিল আকাশী রঙের চাদর, হাতে মোটা মোটা পৌস্তক। তাঁর উচ্চকিত কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট—“আমি বহু ভাষার পণ্ডিত, হাজারো শাস্ত্র পাঠ করেছি। এই সভায় আমিই শ্রেষ্ঠ।”
সভা যেন থমকে গেল। রাজা একটু হাসলেন, বললেন, “মহাশয়, আমাদের সভায় জ্ঞানী তো অনেক আছেন, তবে বিনয়ও তো গুণ। আপনি কি আমাদের কাউকে বুদ্ধিতে হারাতে পারবেন?”
পণ্ডিত বললেন, “অবশ্যই পারব। আমার জ্ঞানের সঙ্গে তুলনা চলে না।”
রাজা তখন তেনালি রামকে ডাকলেন, “রাম, আজ দেখি তো, তোমার বুদ্ধি এই পণ্ডিতের জ্ঞানের সামনে দাঁড়াতে পারে কিনা।”
তেনালি হালকা হাসলেন। বললেন, “মহারাজ, নিশ্চয়ই চেষ্টা করব।”
পণ্ডিত জোর গলায় ঘোষণা করলেন, “আমি এমন একটা ধাঁধা দেব, যার উত্তর সভার কেউ জানে না।”
তিনি ধাঁধা দিলেন, “যে জিনিসটা কোনো বইয়ে নেই, চোখে দেখা যায় না, কিন্তু সবার মাঝেই আছে—তা কী?”
সবাই ভাবছে, কেউ উত্তর দিতে পারছে না। পণ্ডিতের মুখে গর্বের হাসি। তবে তেনালি উঠে দাঁড়ালেন। বললেন, “মহাশয়, উত্তরটি হলো—অহংকার।”
পণ্ডিত অবাক! সভা মৃদু হাসিতে গুঞ্জন। তেনালি যোগ করলেন, “এটা বইয়ে লেখা নেই, চোখেও দেখা যায় না, কিন্তু কিছু মানুষের মনে খুব দৃঢ়ভাবে বাসা বাঁধে।”
পণ্ডিত একটু জড়িয়ে গেলেন, বললেন, “বেশ, এবার আমার একটি প্রশ্ন—বিদ্যায় বড়, না বিনয়ে?”
তেনালি সহজ স্বরে বললেন, “বিদ্যা ছাড়া মানুষ অন্ধ, আর বিনয় ছাড়া বিদ্যা অন্ধকার।”
রাজা খুশি হলেন। পণ্ডিত এবার একটু চুপ। কিন্তু নিজের গর্বে ক্ষতিগ্রস্ত, তিনি বললেন, “এত সহজে হারি না। এবার বলুন তো, আপনি কিভাবে প্রমাণ করবেন বিনয় বিদ্যার চেয়ে বড়?”
তেনালি একটু হেসে বললেন, “আপনি তো নিজেই প্রমাণ করলেন। আপনার অগাধ বিদ্যা আছে, কিন্তু বিনয় নেই। তাই সভার সবাই আপনার সঙ্গে একাত্ম হতে পারছে না। আর দেখুন, আমি বেশি কিছু পড়িনি, তবু সবাই আমাকে ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে। কারণ আমি কাউকে ছোট করি না।”
সভায় তালির শব্দ। পণ্ডিত এবার লজ্জিত। তিনি মাথা নিচু করলেন। বললেন, “তেনালি রাম, আপনি সত্যিই জ্ঞানী। আজ বুঝলাম, বিনয় ছাড়া জ্ঞান মূল্যহীন।”
রাজা হাসলেন, বললেন, “আজকের শিক্ষা—জ্ঞান যতই থাকুক, অহংকার দিয়ে পথ চললে কেউ আপনাকে সম্মান করবে না। বিনয়ী হলে, আপনাকে সবাই ভালোবাসবে, সম্মান করবে।”
পণ্ডিত সভার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ভুল স্বীকার করলেন। বললেন, “আজ থেকে আমি অহংকার ত্যাগ করব। আপনাদের মাঝে থেকে বিনয় ও নম্রতা শিখব।”
তেনালি মৃদু হাসলেন, বললেন, “জ্ঞানীর আসল পরিচয় তার নম্রতায়।”
সেই দিন থেকে পণ্ডিত সভায় নিয়মিত আসতেন, সবার সঙ্গে মিলেমিশে কথা বলতেন। তেনালির সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বও গড়ে উঠল। রাজসভায় আর কখনও কেউ অহংকার নিয়ে বড়াই করার সাহস পেল না, কারণ সবাই জানত—জ্ঞান যতই হোক, বিনয় ছাড়া তা অপূর্ণ।
এভাবেই তেনালি রাম হাস্যরস আর সহজ বুদ্ধিতে শিখিয়েছিলেন—জ্ঞান বড় হলেও, বিনয়ই মানুষের আসল গুণ।
কষ্টসাধ্য জ্ঞান নিয়ে আসা এক গর্বিত পণ্ডিতকে তেনালি রাম সহজ হাস্যরস ও বুদ্ধিতে হারিয়ে দেন, শেখান বিনয় ছাড়া জ্ঞান অপূর্ণ।
0 PLAYS
0.0
by Storiyaa Editorial
About This Story
Story Transcript
বিজয়নগরের রাজসভা ছিল জ্ঞান, বিচার ও হাস্যরসের আকর। রাজা কৃষ্ণদেব রায় প্রতিদিন সভায় আসতেন নানা পণ্ডিত, গুণী আর মজার মানুষের ভিড়ে। সেই সভার একজন ছিলেন তেনালি রাম—অপ্রতিদ্বন্দ্বী বুদ্ধিমান, যার রসিকতা শুনে সবাই হেসে কুটি কুটি হতেন।
একদিন সকালে রাজসভায় প্রবেশ করলেন এক অপরিচিত পণ্ডিত। তাঁর গায়ে জড়ানো ছিল আকাশী রঙের চাদর, হাতে মোটা মোটা পৌস্তক। তাঁর উচ্চকিত কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট—“আমি বহু ভাষার পণ্ডিত, হাজারো শাস্ত্র পাঠ করেছি। এই সভায় আমিই শ্রেষ্ঠ।”
সভা যেন থমকে গেল। রাজা একটু হাসলেন, বললেন, “মহাশয়, আমাদের সভায় জ্ঞানী তো অনেক আছেন, তবে বিনয়ও তো গুণ। আপনি কি আমাদের কাউকে বুদ্ধিতে হারাতে পারবেন?”
পণ্ডিত বললেন, “অবশ্যই পারব। আমার জ্ঞানের সঙ্গে তুলনা চলে না।”
রাজা তখন তেনালি রামকে ডাকলেন, “রাম, আজ দেখি তো, তোমার বুদ্ধি এই পণ্ডিতের জ্ঞানের সামনে দাঁড়াতে পারে কিনা।”
তেনালি হালকা হাসলেন। বললেন, “মহারাজ, নিশ্চয়ই চেষ্টা করব।”
পণ্ডিত জোর গলায় ঘোষণা করলেন, “আমি এমন একটা ধাঁধা দেব, যার উত্তর সভার কেউ জানে না।”
তিনি ধাঁধা দিলেন, “যে জিনিসটা কোনো বইয়ে নেই, চোখে দেখা যায় না, কিন্তু সবার মাঝেই আছে—তা কী?”
সবাই ভাবছে, কেউ উত্তর দিতে পারছে না। পণ্ডিতের মুখে গর্বের হাসি। তবে তেনালি উঠে দাঁড়ালেন। বললেন, “মহাশয়, উত্তরটি হলো—অহংকার।”
পণ্ডিত অবাক! সভা মৃদু হাসিতে গুঞ্জন। তেনালি যোগ করলেন, “এটা বইয়ে লেখা নেই, চোখেও দেখা যায় না, কিন্তু কিছু মানুষের মনে খুব দৃঢ়ভাবে বাসা বাঁধে।”
পণ্ডিত একটু জড়িয়ে গেলেন, বললেন, “বেশ, এবার আমার একটি প্রশ্ন—বিদ্যায় বড়, না বিনয়ে?”
তেনালি সহজ স্বরে বললেন, “বিদ্যা ছাড়া মানুষ অন্ধ, আর বিনয় ছাড়া বিদ্যা অন্ধকার।”
রাজা খুশি হলেন। পণ্ডিত এবার একটু চুপ। কিন্তু নিজের গর্বে ক্ষতিগ্রস্ত, তিনি বললেন, “এত সহজে হারি না। এবার বলুন তো, আপনি কিভাবে প্রমাণ করবেন বিনয় বিদ্যার চেয়ে বড়?”
তেনালি একটু হেসে বললেন, “আপনি তো নিজেই প্রমাণ করলেন। আপনার অগাধ বিদ্যা আছে, কিন্তু বিনয় নেই। তাই সভার সবাই আপনার সঙ্গে একাত্ম হতে পারছে না। আর দেখুন, আমি বেশি কিছু পড়িনি, তবু সবাই আমাকে ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে। কারণ আমি কাউকে ছোট করি না।”
সভায় তালির শব্দ। পণ্ডিত এবার লজ্জিত। তিনি মাথা নিচু করলেন। বললেন, “তেনালি রাম, আপনি সত্যিই জ্ঞানী। আজ বুঝলাম, বিনয় ছাড়া জ্ঞান মূল্যহীন।”
রাজা হাসলেন, বললেন, “আজকের শিক্ষা—জ্ঞান যতই থাকুক, অহংকার দিয়ে পথ চললে কেউ আপনাকে সম্মান করবে না। বিনয়ী হলে, আপনাকে সবাই ভালোবাসবে, সম্মান করবে।”
পণ্ডিত সভার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ভুল স্বীকার করলেন। বললেন, “আজ থেকে আমি অহংকার ত্যাগ করব। আপনাদের মাঝে থেকে বিনয় ও নম্রতা শিখব।”
তেনালি মৃদু হাসলেন, বললেন, “জ্ঞানীর আসল পরিচয় তার নম্রতায়।”
সেই দিন থেকে পণ্ডিত সভায় নিয়মিত আসতেন, সবার সঙ্গে মিলেমিশে কথা বলতেন। তেনালির সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বও গড়ে উঠল। রাজসভায় আর কখনও কেউ অহংকার নিয়ে বড়াই করার সাহস পেল না, কারণ সবাই জানত—জ্ঞান যতই হোক, বিনয় ছাড়া তা অপূর্ণ।
এভাবেই তেনালি রাম হাস্যরস আর সহজ বুদ্ধিতে শিখিয়েছিলেন—জ্ঞান বড় হলেও, বিনয়ই মানুষের আসল গুণ।