সোনার হরিণরাজা ও রাজপুরীর করুণা
Educational

সোনার হরিণরাজা ও রাজপুরীর করুণা

এক গর্ভবতী হরিণীর জীবন বাঁচাতে সোনার হরিণরাজা নিজের জীবন উৎসর্গ করতে চায়, আর মানুষের রাজা সকল হরিণকে সামগ্রিকভাবে ক্ষমা করে দেয়।

0 PLAYS
0.0
by Storiyaa Editorial
Panchatantra Tales (bn)

Episode 4 of a series

Panchatantra Tales (bn)

About This Story

Story Transcript

গভীর জঙ্গলের মাঝে ছিল এক শান্তিপূর্ণ হরিণদের রাজ্য। তাদের রাজা ছিলেন এক অপরূপ সোনালী হরিণ, যার গা থেকে রোদের আলো ঝিলমিল করত। সবাই তাকে “সোনার হরিণরাজা” বলে ডাকত। রাজা ছিলেন দয়ালু, বিচক্ষণ এবং তার প্রজাদের প্রতি ছিল অগাধ মমতা। এদিকে, সেই জঙ্গলের পাশের রাজ্যের মানুষেরা জানত, জঙ্গলে এক আশ্চর্য সোনার হরিণ বাস করে। রাজপুরীর রান্নাঘরে সেদিন রাজা ও তার সভাসদেরা বসে গল্প করছিলেন— “মহারাজ, যদি আমরা জঙ্গলে শিকার করতে যাই, শুনেছি সেখানে এক সোনার হরিণ আছে! রাজ্যের গৌরব বাড়বে যদি আমরা তাকে ধরে আনতে পারি।” রাজা কিছুটা দ্বিধা নিয়ে বললেন, “কিন্তু জঙ্গলের প্রাণীদের জীবনও তো মূল্যবান! তবুও, আমি নিজেই যাব।” পরদিন ভোরে রাজা ও তার সৈন্যরা নিয়ে গেলেন জঙ্গলের গভীরে। সবাই চুপচাপ গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকল। হঠাৎ, এক দুর্বল গর্ভবতী হরিণী জলের খোঁজে পাশে এল। রাজা তার ধনুক তুললেন। কিন্তু হরিণরাজা দূর থেকে সব টের পেয়ে ছুটে এলেন। সোনার হরিণরাজা এগিয়ে গিয়ে বললেন, “হে মহারাজ, দয়া করে গর্ভবতী হরিণীটির প্রাণ রক্ষা করুন। তার গর্ভে নতুন জীবন বেড়ে উঠছে। আমি অনুরোধ করছি, আপনি যদি কাউকে শিকার করতেই চান, তবে আমার জীবন নিন।” রাজার চোখে বিস্ময়, “তুমি কি সত্যিই নিজের জীবন অন্যের জন্য দিতে প্রস্তুত?” হরিণরাজা শান্ত গলায় বললেন, “এ আমার কর্তব্য। রাজা হিসেবে প্রজাদের নিরাপত্তা আমার দায়িত্ব। একটা নতুন প্রাণ জন্ম নেবে— সেটাই তো প্রকৃতির নিয়ম।” রাজার চিত্ত কেঁপে উঠল। এতটা নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আত্মত্যাগ তিনি কখনো দেখেননি। রাজা একটু থেমে বললেন, “তুমি সত্যিই অসাধারণ। এত বড় আত্মত্যাগের জন্য আমি কৃতজ্ঞ।” তখন সোনার হরিণরাজা বলল, “জীবন শুধু নিজের জন্য নয়, সকলের জন্য। প্রকৃত শক্তি হলো দয়া ও সহানুভূতি।” রাজা ধনুক ফেলে দিয়ে বললেন, “আমি প্রতিজ্ঞা করছি, আজ থেকে আমার রাজ্যে আর কোনো হরিণ শিকার হবে না। তোমাদের সবার প্রাণ আমি রক্ষা করব।” জঙ্গলের সব প্রাণী আনন্দে চিৎকার করে উঠল। গর্ভবতী হরিণী চোখ ভেজা স্বরে বলল, “ধন্যবাদ, হে মহারাজ, আর ধন্যবাদ, আমাদের সোনার হরিণরাজা। আজ আমার অনাগত সন্তানের জীবন রক্ষা পেল।” সেই দিন থেকে জঙ্গল ও রাজ্য দুই-ই সুখে শান্তিতে ছিল। সকল পশুপাখি জানত, সহানুভূতি ও আত্মত্যাগের শক্তি সবচেয়ে বড়। বছর কয়েক পর, ছোট্ট হরিণছানা মায়ের গল্প শুনে বড় হয়ে উঠল। সে বলল, “মা, আমি কি সেই সোনার হরিণরাজার মতো সাহসী হতে পারব?” মা হাসিমুখে বলল, “হ্যাঁ, বরং মনে রেখো— প্রকৃত রাজা শুধু শক্তিতে নয়, হৃদয়ের দয়াতেও বড় হয়।” এইভাবে, সোনার হরিণরাজার শিক্ষা ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। রাজা ও তার প্রজারা বারবার মনে রাখল, সত্যিকারের ক্ষমতা দয়ার ভিতরে লুকিয়ে থাকে। ছোট্ট হরিণছানা একদিন জঙ্গলের মাঝে দাঁড়িয়ে সূর্যের আলোয় উজ্জ্বল সোনার হরিণরাজার ছায়া দেখল, যেন প্রকৃতি নিজেই তাকে আশীর্বাদ করছে। গভীর জঙ্গল আর রাজ্যের মধ্যে তখন সত্যিকারের শান্তি। আজও কেউ যদি সে জঙ্গলে যায়, শুনতে পাবে সোনার হরিণরাজার গল্প— দয়া, আত্মত্যাগ আর জীবনের মর্ম উপলব্ধির গল্প। জঙ্গলের পাতার ফাঁকে উঁকি দেয় সোনালী আলো। শিশুরা মায়ের কোলে বসে বলে, “মা, আমরাও কি একদিন সোনার হরিণরাজার মতো হতে পারব?” মা তখন মাথায় হাত বুলিয়ে বলে, “

Reviews

0.0

Rate this story

Loading reviews...