সাহসী ছোট্ট লিলি তার দাদীর বাড়ি যেতে গিয়ে বনের বিপদের মুখোমুখি হয় এবং বিশ্বাস ও সতর্কতার গুরুত্ব শেখে।
0 PLAYS
0.0
by Storiyaa Editorial
About This Story
Story Transcript
ছোট্ট লিলি খুব সাহসী মেয়ে। তার চোখে ছিল হাজারো কৌতূহল, আর বুকভরা স্বপ্ন। একদিন সকালে মা তাকে ডেকে বললেন, "লিলি, আজ তুমি দাদীর বাড়ি যাবে? দাদীর স্বাস্থ্য ভালো নেই, একটু একা লাগছে। তুমি গেলে সে খুব খুশি হবে।"
লিলির খুশিতে মন ভরে গেল। সে তার প্রিয় লাল চাদরটি গায়ে জড়িয়ে, ছোট্ট ঝোলা কাঁধে নিয়ে, মা'র কাছ থেকে নানা ধরনের সতর্কতা শুনে নিল। মা বললেন, "লিলি, বনের ভেতর দিয়ে যেতে হবে। কিন্তু কখনোও পথভ্রষ্ট হয়ো না, অজানা কাউকে বিশ্বাস করো না।"
লিলি আশ্বাস দিল, "মা, আমি কথা দিচ্ছি, সব কথা মনে রাখব।"
বনের পথটি ছিল সবুজে ঢাকা, পাখিরা গান গাইছে। হঠাৎ, একটা শিয়াল গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে বলল, "ও ছোট্ট মেয়ে, কোথায় যাচ্ছো তুমি?"
লিলি কিছুটা ভয়ে পড়লেও, শান্তভাবে বলল, "আমি দাদীর বাড়ি যাচ্ছি, উনি অসুস্থ।"
শিয়াল মিষ্টি হেসে বলল, "তাহলে তো তোমার দাদী খুব খুশি হবে! তুমি এই ফাঁকা পথ দিয়ে গিয়ে দেখো, পাশে অনেক সুন্দর ফুল ফোটে। সেখান দিয়ে গেলে পথ আরও সহজ হবে।"
লিলি ভাবল, শিয়াল সত্যিই ভালোর জন্য বলছে কিনা। তার মনে পড়ল মা'র কথা, "অজানা কাউকে বিশ্বাস করো না।" তাই সে নরম গলায় বলল, "ধন্যবাদ, কিন্তু আমি আমার মায়ের কথা শুনব। আমি সরাসরি পথেই যাব।"
শিয়ালের মুখ গম্ভীর হয়ে গেল, সে দ্রুত চলে গেল বনের ভেতর। লিলি তার পথ ধরে এগিয়ে গেল। কিছুদূর গিয়ে, সে দেখল রাস্তায় একটা ছোট খরগোশ কাঁদছে। লিলি কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, "তুমি কেন কাঁদছো?"
খরগোশ বলল, "আমি পথ হারিয়ে গেছি, দয়া করে আমাকে আমার বাসায় নিয়ে যাবে?"
লিলি খরগোশকে দেখল, তার সত্যিই কষ্ট হচ্ছে। লিলি ভাবল, মায়ের কথাও মানতে হবে, আবার কারও বিপদে সহানুভূতিও দেখাতে হবে। সে খরগোশকে বলল, "দেখো, আমাকে আগে দাদীর বাড়ি যেতে হবে। তারপর ফেরার পথে তোমাকে নিয়ে যাবো, ঠিক আছে?"
খরগোশ খুশি হয়ে বলল, "ধন্যবাদ! আমি এখানেই থাকব।"
লিলি এগিয়ে গেল। অবশেষে সে দাদীর ছোট্ট বাড়িতে পৌঁছে গেল। দরজায় নক করতেই দাদী দরজা খুললেন। দাদীর মুখে হাসি ফুটল, "আহা, আমার লিলি এসেছে!"
লিলি দাদীকে জড়িয়ে ধরল, তার হাতে নিয়ে আসা ফল আর কেক দিল। দাদী বললেন, "তুমি একা এলে কি ভয় পাওনি?"
লিলি মাথা নেড়ে বলল, "ভয় পাইনি, কারণ আমি মা'র কথা শুনেছি। পথে এক শিয়াল আমাকে ভুল পথে নিতে চেয়েছিল, আমি যাইনি। আবার এক খরগোশকে সাহায্য করার কথা ভাবছিলাম, কিন্তু আগে তোমার কাছে পৌঁছানো জরুরি ছিল।"
দাদী গর্বিত হয়ে বললেন, "তুমি সত্যিই বুদ্ধিমান মেয়ে। কখনওই অজানা কাউকে বিশ্বাস করা উচিত নয়, আবার যে বিপদে আছে তাকেও ভুলে যাওয়া উচিত নয়।"
লিলি হাসল, "আমি ফেরার পথে খরগোশকে সাহায্য করব।"
দাদী তার হাত ধরে বললেন, "তুমি সাহসী, আবার সহানুভূতিশীলও। এটাই সবচেয়ে বড় গুণ।"
লিলি ও দাদী গল্প করতে করতে কেক খেল, হাসল। ফেরার পথে লিলি খরগোশকে খুঁজে পেলে তাকে তার বাসায় পৌঁছে দিল।
বাড়ি ফিরে লিলি তার মা'কে সব কথা বলল। মা তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, "তুমি শুধু সাহসী নও, তুমি খুবই দায়িত্ববান ও দয়ালু। আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত।"
সেই রাতেই লিলি ঘুমিয়ে পড়ার আগে ভাবল, "বিপদের সময় সতর্ক থাকতে হয়, আবার অন্যের কষ্ট দেখেও সাহায্যের হাত বাড়াতে হয়।"
এভাবেই সাহস, সতর্কতা ও সহান
সাহসী ছোট্ট লিলি তার দাদীর বাড়ি যেতে গিয়ে বনের বিপদের মুখোমুখি হয় এবং বিশ্বাস ও সতর্কতার গুরুত্ব শেখে।
0 PLAYS
0.0
by Storiyaa Editorial
About This Story
Story Transcript
ছোট্ট লিলি খুব সাহসী মেয়ে। তার চোখে ছিল হাজারো কৌতূহল, আর বুকভরা স্বপ্ন। একদিন সকালে মা তাকে ডেকে বললেন, "লিলি, আজ তুমি দাদীর বাড়ি যাবে? দাদীর স্বাস্থ্য ভালো নেই, একটু একা লাগছে। তুমি গেলে সে খুব খুশি হবে।"
লিলির খুশিতে মন ভরে গেল। সে তার প্রিয় লাল চাদরটি গায়ে জড়িয়ে, ছোট্ট ঝোলা কাঁধে নিয়ে, মা'র কাছ থেকে নানা ধরনের সতর্কতা শুনে নিল। মা বললেন, "লিলি, বনের ভেতর দিয়ে যেতে হবে। কিন্তু কখনোও পথভ্রষ্ট হয়ো না, অজানা কাউকে বিশ্বাস করো না।"
লিলি আশ্বাস দিল, "মা, আমি কথা দিচ্ছি, সব কথা মনে রাখব।"
বনের পথটি ছিল সবুজে ঢাকা, পাখিরা গান গাইছে। হঠাৎ, একটা শিয়াল গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে বলল, "ও ছোট্ট মেয়ে, কোথায় যাচ্ছো তুমি?"
লিলি কিছুটা ভয়ে পড়লেও, শান্তভাবে বলল, "আমি দাদীর বাড়ি যাচ্ছি, উনি অসুস্থ।"
শিয়াল মিষ্টি হেসে বলল, "তাহলে তো তোমার দাদী খুব খুশি হবে! তুমি এই ফাঁকা পথ দিয়ে গিয়ে দেখো, পাশে অনেক সুন্দর ফুল ফোটে। সেখান দিয়ে গেলে পথ আরও সহজ হবে।"
লিলি ভাবল, শিয়াল সত্যিই ভালোর জন্য বলছে কিনা। তার মনে পড়ল মা'র কথা, "অজানা কাউকে বিশ্বাস করো না।" তাই সে নরম গলায় বলল, "ধন্যবাদ, কিন্তু আমি আমার মায়ের কথা শুনব। আমি সরাসরি পথেই যাব।"
শিয়ালের মুখ গম্ভীর হয়ে গেল, সে দ্রুত চলে গেল বনের ভেতর। লিলি তার পথ ধরে এগিয়ে গেল। কিছুদূর গিয়ে, সে দেখল রাস্তায় একটা ছোট খরগোশ কাঁদছে। লিলি কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, "তুমি কেন কাঁদছো?"
খরগোশ বলল, "আমি পথ হারিয়ে গেছি, দয়া করে আমাকে আমার বাসায় নিয়ে যাবে?"
লিলি খরগোশকে দেখল, তার সত্যিই কষ্ট হচ্ছে। লিলি ভাবল, মায়ের কথাও মানতে হবে, আবার কারও বিপদে সহানুভূতিও দেখাতে হবে। সে খরগোশকে বলল, "দেখো, আমাকে আগে দাদীর বাড়ি যেতে হবে। তারপর ফেরার পথে তোমাকে নিয়ে যাবো, ঠিক আছে?"
খরগোশ খুশি হয়ে বলল, "ধন্যবাদ! আমি এখানেই থাকব।"
লিলি এগিয়ে গেল। অবশেষে সে দাদীর ছোট্ট বাড়িতে পৌঁছে গেল। দরজায় নক করতেই দাদী দরজা খুললেন। দাদীর মুখে হাসি ফুটল, "আহা, আমার লিলি এসেছে!"
লিলি দাদীকে জড়িয়ে ধরল, তার হাতে নিয়ে আসা ফল আর কেক দিল। দাদী বললেন, "তুমি একা এলে কি ভয় পাওনি?"
লিলি মাথা নেড়ে বলল, "ভয় পাইনি, কারণ আমি মা'র কথা শুনেছি। পথে এক শিয়াল আমাকে ভুল পথে নিতে চেয়েছিল, আমি যাইনি। আবার এক খরগোশকে সাহায্য করার কথা ভাবছিলাম, কিন্তু আগে তোমার কাছে পৌঁছানো জরুরি ছিল।"
দাদী গর্বিত হয়ে বললেন, "তুমি সত্যিই বুদ্ধিমান মেয়ে। কখনওই অজানা কাউকে বিশ্বাস করা উচিত নয়, আবার যে বিপদে আছে তাকেও ভুলে যাওয়া উচিত নয়।"
লিলি হাসল, "আমি ফেরার পথে খরগোশকে সাহায্য করব।"
দাদী তার হাত ধরে বললেন, "তুমি সাহসী, আবার সহানুভূতিশীলও। এটাই সবচেয়ে বড় গুণ।"
লিলি ও দাদী গল্প করতে করতে কেক খেল, হাসল। ফেরার পথে লিলি খরগোশকে খুঁজে পেলে তাকে তার বাসায় পৌঁছে দিল।
বাড়ি ফিরে লিলি তার মা'কে সব কথা বলল। মা তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, "তুমি শুধু সাহসী নও, তুমি খুবই দায়িত্ববান ও দয়ালু। আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত।"
সেই রাতেই লিলি ঘুমিয়ে পড়ার আগে ভাবল, "বিপদের সময় সতর্ক থাকতে হয়, আবার অন্যের কষ্ট দেখেও সাহায্যের হাত বাড়াতে হয়।"
এভাবেই সাহস, সতর্কতা ও সহান