রাণীর ঈর্ষা ও হাতির করুণ পরিণতি: অতীত জীবনের শিক্ষা
Educational

রাণীর ঈর্ষা ও হাতির করুণ পরিণতি: অতীত জীবনের শিক্ষা

এক রাণীর অন্ধ ঈর্ষা কীভাবে ধ্বংস ডেকে আনে এবং তারই অতীত জীবনের ভুল থেকে আমরা কী শিক্ষা নিতে পারি, এই গল্পে উঠে এসেছে।

0 PLAYS
0.0
by Storiyaa Editorial
Panchatantra Tales (bn)

Episode 3 of a series

Panchatantra Tales (bn)

About This Story

Story Transcript

অনেক অনেক বছর আগে, সুবর্ণপুর নামে এক শান্তিপূর্ণ রাজ্যে রাজত্ব করতেন মহারাজ বিক্রমসিংহ। তিনি ন্যায়পরায়ণ ও প্রজাবৎসল শাসক ছিলেন। তার স্ত্রী, রাণী চন্দ্রবালা, সুশ্রী ও বিদুষী হলেও, কখনো কখনো তার মনে ঈর্ষার ছায়া ঘনিয়ে আসত। রাজপ্রাসাদে ছিল এক বিশাল সাদা হাতি, যার নাম ছিল চন্দন। এই হাতি ছিল রাজ্যের গর্ব, কারণ সে রাজকীয় শোভাযাত্রায় অংশ নিত এবং শিশুদের খেলা দেখিয়ে সবাইকে আনন্দ দিত। রাজা চন্দনকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন। দিনের শেষে রাজার পাশে বসে চন্দন আপন মনে শুঁড় নাড়িয়ে গল্প শোনাতো। কিন্তু ধীরে ধীরে রাণী চন্দ্রবালা লক্ষ্য করলেন, রাজা হাতির প্রতি অদ্ভুত এক ভালোবাসা দেখান। রাজ্যে যখন কোনো উৎসব হত, চন্দনকে সবার আগে সাজানো হত, রান্নাঘর থেকে তার জন্য বিশেষ খাবার আসত। এমনকি রাজার সঙ্গে চন্দনই বেশি সময় কাটাত। রাণীর মনে সন্দেহের বিষবৃক্ষ জন্ম নিল। তিনি ভাবলেন, "রাজা কি আমাকে আর আগের মতো ভালোবাসেন না? আমার পরিবর্তে একটি হাতির প্রতি এতটা স্নেহ কেন?" এই চিন্তা তাকে ক্রমশ বিষণ্ণ করে তুলল। একদিন রাণী তার প্রিয় সখী মাধুরীর কাছে মন খুলে বললেন, "মাধুরী, তুমি দেখো না, রাজা এখন শুধু চন্দনকেই গুরুত্ব দেন! আমার মনে হয়, রাজপ্রাসাদে আমার আর কোনো মূল্য নেই।" মাধুরী শান্ত স্বরে বলল, "রাণীমা, রাজা আপনাকে গভীর ভালোবাসেন। কিন্তু চন্দন তো সবার প্রিয়! তাকে নিয়ে ঈর্ষা কেন?" কিন্তু রাণী রাগে আর দুঃখে অন্ধ হয়ে গেলেন। তিনি স্থির করলেন, চন্দনকে সরিয়ে দিতে হবে। রাজ্যের ওঝাকে ডেকে এনে তিনি বললেন, "এমন কিছু করো, যাতে চন্দন আর বেশিদিন না থাকে। রাজা তখন আবার আমাকে আগের মতো ভালোবাসবেন।" ওঝা গোপনে চন্দনের খাদ্যে বিষ মিশিয়ে দিলো। কিছুদিনের মধ্যেই হাতি অসুস্থ হয়ে পড়ল। রাজা ডাক্তার, কবিরাজ—সব ডাকলেন, কিন্তু চন্দনের অবস্থার কোনো উন্নতি হল না। একদিন সকালে, রাজপ্রাসাদের উঠোনে চন্দন নিঃশব্দে প্রাণ ত্যাগ করল। হাতির মৃত্যুর খবর শুনে রাজা ভেঙে পড়লেন। গোটা রাজ্যে শোকের ছায়া নেমে এলো। রাজা চন্দনের স্মরণে একটি বিশাল স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করলেন। কিন্তু রাণীর মনে শান্তি এল না। বরং, তার বুকের মাঝে অপরাধবোধের আগুন জ্বলতে লাগল। কয়েক মাস পর, রাজ্যে এক বিখ্যাত সাধু এলেন। রাজা ও রাণী তার দর্শন করতে গেলেন। সাধু গভীর দৃষ্টিতে রাণীর দিকে তাকিয়ে বললেন, "রাণীমা, আপনি কি জানেন, এই দুঃখ কেন আপনার জীবনে এলো?" রাণী বিস্ময়ে বললেন, "ধ্যানগুরু, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।" সাধু বললেন, "পূর্বজন্মে আপনি ছিলেন এই রাজ্যেরই এক রাণী। সেও ছিল এক মহৎ হাতি, যার প্রতি আপনার ঈর্ষা জন্মেছিল। সেই ঈর্ষা থেকেই আপনি তাকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করেছিলেন। আজ, বর্তমান জীবনে, সেই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটল।" রাণীর চোখে জল এসে গেল। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন, "ধ্যানগুরু, আমি কীভাবে এই পাপ থেকে মুক্তি পাবো? আমি যে ভয়ঙ্কর ভুল করেছি!" সাধু নম্র স্বরে বললেন, "প্রত্যেক জীবনের কর্মের ফল রয়েছে। কিন্তু অনুশোচনা ও ভালো কাজের মাধ্যমে আমরা মুক্তি পেতে পারি। আপনি যদি সত্যিকারের অনুতপ্ত হন, তবে হাতিদের সেবা করুন, অবলা প্রাণীর মঙ্গল কামনা করুন।" সেদিন থেকে রাণী পুরোপুরি বদলে গেলেন। তিনি রাজ্যে হাতিদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তুললেন, দুঃখী ও অসুস্থ পশুদের দেখভাল করতেন। রাজা ধীরে ধীরে রাণীর পরিবর্তন দেখে তাকে আবার ভালোবাসতে লাগলেন। রাজ্যবাসীও তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন। এই ঘটনার পর, রাণী উপলব্ধি করলেন

Reviews

0.0

Rate this story

Loading reviews...