এই মধুর গল্পটি শেখায় কিভাবে পার্থক্যকে শ্রদ্ধা ও আত্মসম্মান গড়ে তুলতে হয়। ছোট্ট কুৎসিত হাঁসের ছানা বড় হয়ে নিজের সৌন্দর্য আবিষ্কার করে।
0 PLAYS
0.0
by Storiyaa Editorial
About This Story
Story Transcript
একটা ছোট্ট গ্রামে একদিন এক মেয়ে হাঁস ছয়টি ডিম দিয়েছিলো। ডিমগুলোকে যত্ন করে নিজের ডানার তলায় আগলে রেখেছিল সে। কিছুদিন পর এক এক করে পাঁচটি ডিম ফেটে বেরিয়ে এলো সুন্দর, তুলতুলে, হলুদ রঙের হাঁসশাবক। তারা সবাই একসাথে হাঁটতে শিখলো, পানিতে সাঁতার কাটলো, আর একসাথে মা হাঁসের পেছনে ছুটোছুটি করতো।
কিন্তু ষষ্ঠ ডিমটি অনেক বড় ছিল, আর অন্যদের চেয়ে ফোটাতেও দেরি হল। অবশেষে, ডিমটি ফেটে বেরিয়ে এলো এক অদ্ভুত ছানা—সে ছিল অনেক লম্বা, রংটা ধূসর আর গায়ের পালকগুলো এলোমেলো। মা হাঁস একটু অবাক হলেও তাকে সবার সাথে রাখলো।
বাকি হাঁসশাবকরা যখন খেলত আর আনন্দ করত, অন্যরকম দেখতে ছানাটিকে তারা বারবার মজা করতো। “ওকে দেখো, কেমন কুৎসিত! ও কি আমাদের ভাই?” বলেই তারা হেসে উঠতো। ছানাটি চুপচাপ কাঁদতো, তার দুঃখ হতো। সে মাকে জিজ্ঞেস করতো, “মা, আমি কি তোমাদের মতো সুন্দর নই?” মা হাঁস বলতো, “তুমি বিশেষ। সবার রূপ একরকম হয় না। সবাইকে গ্রহণ করতে জানতে হয়।”
কিন্তু অন্যান্য হাঁস, মুরগি, এমনকি খামারের শিশুরাও তাকে মজা করতো। একদিন খুব মন খারাপ করে ছানাটি চুপিচুপি খামার ছেড়ে চলে গেল। সে ঘাসের মাঠ পার হয়ে, সরোবরের ধারে গিয়ে বসলো। সেখানে সে কিছু জংলি হাঁসের দেখা পেলো।
তারা জিজ্ঞেস করলো, “তুমি কে? কেন এত একা?” কুৎসিত ছানাটি কাঁদতে কাঁদতে বললো, “আমি কারো মতো না, তাই কেউ আমাকে ভালোবাসে না।” জংলি হাঁসেরা মৃদু সান্ত্বনা দিলো—“তুমি যেমনই হও, প্রকৃতি তোমাকে এমনই বানিয়েছে। সাহস রেখো।”
শীত চলে এলো। চারিদিকে বরফ জমে গেল। হাঁসশাবকটি ঠান্ডায় কষ্ট পেলো, খাবারও পেতো না। এক বৃদ্ধ কৃষক তাকে দেখে ঘরে নিয়ে গেলেন, একটু উষ্ণতা আর খাবার দিলেন। কিন্তু ঘরের বাচ্চা বিড়াল আর মুরগি তাকে নিয়ে আবারো হাসাহাসি করলো। হাঁসশাবকটি নিরবে বাইরে ফিরে এলো, শীতে, একা।
দিন গড়াল। শীত শেষে এলো বসন্ত। হাঁসশাবকটি বড় হয়ে উঠলো। একদিন সে দেখে, সরোবরের জলে কয়েকটি শুভ্র, রাজসিক রাজহাঁস সাঁতার কাটছে। তাদের দেখে তার মন ভরে গেলো।
সে একটু লজ্জা পেয়ে জলের ধারে যেতেই রাজহাঁসেরা ডাক দিলো, “এসো, আমাদের সাথে খেলো।” হাঁসশাবকটি ভয়ে বললো, “আমি তো কুৎসিত, তোমরা আমায় তাড়িয়ে দেবে না তো?” এক রাজহাঁস মিষ্টি গলায় বললো, “তুমি কি কখনও নিজের ছায়া দেখেছো?”
হাঁসশাবকটি জলের উপর ঝুঁকে দেখে—তার প্রতিচ্ছবিতে আর কোনো কুৎসিত হাঁস নেই। সে নিজেই এক অপরূপ সাদা রাজহাঁসে পরিণত হয়েছে! তার পালক উজ্জ্বল, গলার বাঁক সুন্দর, চোখ দুটো দীপ্তিময়।
রাজহাঁসেরা তাকে বরণ করে নিলো। সবাই বললো, “তুমি আমাদেরই একজন। ছোটবেলায় তুমি আলাদা ছিলে, কিন্তু তোমার ভেতরেই ছিল এই সৌন্দর্য।”
হাঁসশাবকটি প্রথমবারের মতো নিজের ওপর গর্ব অনুভব করলো। তার মনে হলো, পৃথিবীতে সবাই একরকম হয় না—কিন্তু নিজেদের মতো করেই সৌন্দর্য আছে সবার মাঝে।
সে ফিরে গেল সেই খামারে, মা হাঁস আর ভাইবোনদের দেখতে। সবাই অবাক হয়ে বললো, “ও কি আমাদের সেই কুৎসিত ছানাটি? এখন ও কত সুন্দর, কত আত্মবিশ্বাসী!” হাঁসশাবকটি হাসলো, মা হাঁসও গর্বে চোখে জল নিয়ে বললেন, “তুমি যেভাবেই হও, আমি সবসময় তোমাকে ভালোবেসেছি।”
সেদিন থেকে হাঁসশাবকটি জানলো—নিজেকে ভালোবাসা আর
এই মধুর গল্পটি শেখায় কিভাবে পার্থক্যকে শ্রদ্ধা ও আত্মসম্মান গড়ে তুলতে হয়। ছোট্ট কুৎসিত হাঁসের ছানা বড় হয়ে নিজের সৌন্দর্য আবিষ্কার করে।
0 PLAYS
0.0
by Storiyaa Editorial
About This Story
Story Transcript
একটা ছোট্ট গ্রামে একদিন এক মেয়ে হাঁস ছয়টি ডিম দিয়েছিলো। ডিমগুলোকে যত্ন করে নিজের ডানার তলায় আগলে রেখেছিল সে। কিছুদিন পর এক এক করে পাঁচটি ডিম ফেটে বেরিয়ে এলো সুন্দর, তুলতুলে, হলুদ রঙের হাঁসশাবক। তারা সবাই একসাথে হাঁটতে শিখলো, পানিতে সাঁতার কাটলো, আর একসাথে মা হাঁসের পেছনে ছুটোছুটি করতো।
কিন্তু ষষ্ঠ ডিমটি অনেক বড় ছিল, আর অন্যদের চেয়ে ফোটাতেও দেরি হল। অবশেষে, ডিমটি ফেটে বেরিয়ে এলো এক অদ্ভুত ছানা—সে ছিল অনেক লম্বা, রংটা ধূসর আর গায়ের পালকগুলো এলোমেলো। মা হাঁস একটু অবাক হলেও তাকে সবার সাথে রাখলো।
বাকি হাঁসশাবকরা যখন খেলত আর আনন্দ করত, অন্যরকম দেখতে ছানাটিকে তারা বারবার মজা করতো। “ওকে দেখো, কেমন কুৎসিত! ও কি আমাদের ভাই?” বলেই তারা হেসে উঠতো। ছানাটি চুপচাপ কাঁদতো, তার দুঃখ হতো। সে মাকে জিজ্ঞেস করতো, “মা, আমি কি তোমাদের মতো সুন্দর নই?” মা হাঁস বলতো, “তুমি বিশেষ। সবার রূপ একরকম হয় না। সবাইকে গ্রহণ করতে জানতে হয়।”
কিন্তু অন্যান্য হাঁস, মুরগি, এমনকি খামারের শিশুরাও তাকে মজা করতো। একদিন খুব মন খারাপ করে ছানাটি চুপিচুপি খামার ছেড়ে চলে গেল। সে ঘাসের মাঠ পার হয়ে, সরোবরের ধারে গিয়ে বসলো। সেখানে সে কিছু জংলি হাঁসের দেখা পেলো।
তারা জিজ্ঞেস করলো, “তুমি কে? কেন এত একা?” কুৎসিত ছানাটি কাঁদতে কাঁদতে বললো, “আমি কারো মতো না, তাই কেউ আমাকে ভালোবাসে না।” জংলি হাঁসেরা মৃদু সান্ত্বনা দিলো—“তুমি যেমনই হও, প্রকৃতি তোমাকে এমনই বানিয়েছে। সাহস রেখো।”
শীত চলে এলো। চারিদিকে বরফ জমে গেল। হাঁসশাবকটি ঠান্ডায় কষ্ট পেলো, খাবারও পেতো না। এক বৃদ্ধ কৃষক তাকে দেখে ঘরে নিয়ে গেলেন, একটু উষ্ণতা আর খাবার দিলেন। কিন্তু ঘরের বাচ্চা বিড়াল আর মুরগি তাকে নিয়ে আবারো হাসাহাসি করলো। হাঁসশাবকটি নিরবে বাইরে ফিরে এলো, শীতে, একা।
দিন গড়াল। শীত শেষে এলো বসন্ত। হাঁসশাবকটি বড় হয়ে উঠলো। একদিন সে দেখে, সরোবরের জলে কয়েকটি শুভ্র, রাজসিক রাজহাঁস সাঁতার কাটছে। তাদের দেখে তার মন ভরে গেলো।
সে একটু লজ্জা পেয়ে জলের ধারে যেতেই রাজহাঁসেরা ডাক দিলো, “এসো, আমাদের সাথে খেলো।” হাঁসশাবকটি ভয়ে বললো, “আমি তো কুৎসিত, তোমরা আমায় তাড়িয়ে দেবে না তো?” এক রাজহাঁস মিষ্টি গলায় বললো, “তুমি কি কখনও নিজের ছায়া দেখেছো?”
হাঁসশাবকটি জলের উপর ঝুঁকে দেখে—তার প্রতিচ্ছবিতে আর কোনো কুৎসিত হাঁস নেই। সে নিজেই এক অপরূপ সাদা রাজহাঁসে পরিণত হয়েছে! তার পালক উজ্জ্বল, গলার বাঁক সুন্দর, চোখ দুটো দীপ্তিময়।
রাজহাঁসেরা তাকে বরণ করে নিলো। সবাই বললো, “তুমি আমাদেরই একজন। ছোটবেলায় তুমি আলাদা ছিলে, কিন্তু তোমার ভেতরেই ছিল এই সৌন্দর্য।”
হাঁসশাবকটি প্রথমবারের মতো নিজের ওপর গর্ব অনুভব করলো। তার মনে হলো, পৃথিবীতে সবাই একরকম হয় না—কিন্তু নিজেদের মতো করেই সৌন্দর্য আছে সবার মাঝে।
সে ফিরে গেল সেই খামারে, মা হাঁস আর ভাইবোনদের দেখতে। সবাই অবাক হয়ে বললো, “ও কি আমাদের সেই কুৎসিত ছানাটি? এখন ও কত সুন্দর, কত আত্মবিশ্বাসী!” হাঁসশাবকটি হাসলো, মা হাঁসও গর্বে চোখে জল নিয়ে বললেন, “তুমি যেভাবেই হও, আমি সবসময় তোমাকে ভালোবেসেছি।”
সেদিন থেকে হাঁসশাবকটি জানলো—নিজেকে ভালোবাসা আর