হাসির ওষুধ: রাজাকে সুস্থ করলেন জ্ঞানী বৈদ্য
Educational

হাসির ওষুধ: রাজাকে সুস্থ করলেন জ্ঞানী বৈদ্য

এক রাজা যখন দুঃখে ভুগছিলেন, এক জ্ঞানী বৈদ্য তাকে হাসাতে নিজস্ব কৌশলে এগিয়ে এলেন। এই গল্পে জানুন কীভাবে হাসি ও প্রজ্ঞা রাজাকে সুস্থ করল।

0 PLAYS
0.0
by Storiyaa Editorial
Panchatantra Tales (bn)

Episode 5 of a series

Panchatantra Tales (bn)

About This Story

Story Transcript

এক সময়ের কথা। দূরদেশের এক রাজ্যে ছিলেন রাজা চন্দ্রসেন। তিনি প্রজাদের খুব ভালোবাসতেন, ন্যায়বিচার করতেন, আর রাজ্যের সুখ-সমৃদ্ধি নিয়ে সবসময় চিন্তিত থাকতেন। হঠাৎ একদিন রাজা অজানা এক রোগে আক্রান্ত হলেন। তাঁর শরীরে কোনো অসুখ ধরা পড়লো না, কিন্তু মনটি কেমন যেন ভারী হয়ে গেল। আগের মতো আর হাসি-খুশিতে থাকতেন না, রাজকার্যেও আগ্রহ কমে গেল। রাজ্যের চিকিৎসকরা নানা ওষুধ দিয়ে চেষ্টা করলেন, কিন্তু কোনো লাভ হলো না। একদিন রাজরানী এসে বললেন, “মহারাজ, আপনার মুখে আর সেই হাসি দেখি না। রাজ্যও যেন নীরব হয়ে গেছে।” রাজা গভীর শ্বাস নিয়ে বললেন, “কী জানি রানী, মনে হয় আমার মনের দরজাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। কোনো কিছুতেই আনন্দ পাই না।” এরপর রাজসভায় ডাক পড়লো দেশের বিখ্যাত সব চিকিৎসকদের। তারা অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলো, নানা জড়িবুটি, তেল, মলম দিলেন। কিন্তু রাজা আগের মতোই চুপচাপ। তখন রাজপুরোহিত বললেন, “মহারাজ, জ্ঞানী বৈদ্য রুদ্রদত্তকে ডেকে দেখুন। ওঁর জ্ঞানে অনেক অদ্ভুত রোগও সেরে উঠেছে।” রাজা সম্মতি দিলেন। কয়েকদিনের মধ্যেই বৈদ্য রুদ্রদত্ত এলেন রাজপ্রাসাদে। তাঁর বয়স বেশি নয়, কিন্তু চোখে-মুখে এক অদ্ভুত উজ্জ্বলতা। রাজাকে দেখে নমস্কার জানিয়ে বললেন, “মহারাজ, আপনি কীভাবে ভালো হতেন চান?” রাজা অবাক হয়ে বললেন, “ভালো তো হতে চাই, কিন্তু আমার যে কোনো কিছুতেই মন বসে না, আনন্দ পাই না — এ অসুখ সারাবে কে?” রুদ্রদত্ত মুচকি হেসে বললেন, “আপনার ওষুধ আমি জানি। তবে সেটা একটু আলাদা।” রানী জিজ্ঞেস করলেন, “কী ওষুধ?” বৈদ্য বললেন, “হাসির ওষুধ। মহারাজ, আপনি কি এখনো হাসতে পারেন?” রাজা কাতর গলায় বললেন, “হাসি তো অনেকদিন হলো হারিয়ে গেছে।” রুদ্রদত্ত বললেন, “তাহলে এই কাজটি করুন। প্রতিদিন সকালে আয়নায় নিজের মুখ দেখে একবার জোরে হাসুন। আর, রাজ্যের সবচেয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। ওদের গল্প শুনুন।” রাজা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “এতে সত্যিই কি আমার রোগ সেরে যাবে?” বৈদ্য দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, “প্রচেষ্টা ছাড়া কিছুই হয় না, মহারাজ! আপনি চেষ্টা করুন, সাতদিন পর দেখা হবে।” পরের দিন সকালে রাজা আয়নার সামনে দাঁড়ালেন। নিজের মুখ দেখে হেসে ফেলতে গিয়েও পারলেন না। তিনি মনে মনে ভাবলেন, “আমি তো রাজা, আমার হাসির এমন কী দরকার?” কিন্তু বৈদ্যের কথা ভেবে তিনি আবার চেষ্টা করলেন। মুখটা অদ্ভুতভাবে বাঁকিয়ে একটু হাসলেন। হঠাৎ সে হাসি দেখে নিজেই হেসে উঠলেন। পরের দিন রাজা বাগানে হাঁটতে বেরোলেন। দেখলেন এক মালী গাছের নিচে মাটি খুঁড়ছে আর নিজের সঙ্গে কথা বলছে। রাজা কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি একা একা কী বলছো?” মালী ভয়ে কুঁকড়ে গেল, কিন্তু তারপর মুচকি হেসে বলল, “মহারাজ, গাছের সাথে কথা না বললে ওরা বড় হয় না। ওরাও তো ভালো কথা পছন্দ করে।” রাজা অবাক হয়ে মালীকে নিয়ে গল্প করতে লাগলেন। অন্যদিন বাজারে গিয়ে এক ছেলের কৌতুক শুনলেন, আবার এক বৃদ্ধার কাছে তার ছেলের গল্প শুনলেন। ধীরে ধীরে রাজার মধ্যে পরিবর্তন আসতে লাগল। একটু একটু করে তিনি হাসতে শুরু করলেন, ছোট ছোট ব্যাপারে আনন্দ পেতে লাগলেন। সাতদিন পর বৈদ্য রুদ্রদত্ত আবার আসলেন। রাজা এবার হাসিমুখে বললেন, “তুমি যথার্থ বলেছো, রুদ্রদত্ত! হাসি যে এমন বড় ওষুধ হতে পারে, বুঝতেই পারিনি।” বৈদ্য শান্ত গলায় বললেন, “মহারাজ, যেখানে আনন্দ নেই, সেখানে অসুখ আসবেই। জ্ঞানের আসল শক্তি নিজেকে ও অন্যকে আনন্দে ভ

Reviews

0.0

Rate this story

Loading reviews...