বাঁদর রাজা ও তাঁর আত্মত্যাগের সেতু
Educational

বাঁদর রাজা ও তাঁর আত্মত্যাগের সেতু

বাঁদর রাজা তাঁর দলের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেন, এক সেতু গড়ে সকলকে উদ্ধার করেন এবং মৃত্যুর পর সম্মানিত হন। এই অনুপ্রেরণামূলক গল্প থেকে শিখুন আত্মত্যা...

6 PLAYS
5.0(1)
by Storiyaa Editorial
Panchatantra Tales (bn)

Episode 1 of a series

Panchatantra Tales (bn)

About This Story

Story Transcript

অনেক বছর আগে, এক ঘন জঙ্গল ছিলো যেখানে একটি বাঁদরের বড় দল বাস করতো। তাদের নেতা ছিলেন মহাবলী বাঁদর রাজা, যিনি ছিলেন সাহসী, বুদ্ধিমান ও সবার প্রতি দয়ালু। তাঁর নেতৃত্বে বাঁদররা ছিলো নিরাপদ এবং সুখী। এই জঙ্গলের মাঝখানে ছিলো একটি বিশাল বটগাছ। সেই গাছেই বাঁদরদের দলের বাস। বটগাছের ডালে ডালে ঝুলে, খেলাধুলা করে আর মধু ফল খেয়ে তারা আনন্দে দিন কাটাতো। বাঁদর রাজা সব সময় দলকে পরামর্শ দিতেন, “সবাই একসাথে থাকো, বিপদে একে অপরকে সাহায্য করো।” একদিন, রাজ্যটির রাজা, ভরত চন্দ্র, শিকার করতে এসে জঙ্গলে প্রবেশ করলেন। তিনি তার সঙ্গীদের নিয়ে বটগাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিতে বসলেন। হঠাৎ তাঁর চোখে পড়ল, গাছের এক পাকে ঝুলছে টকমিষ্টি ফলের থোকা। রাজা ভাবলেন, “এ ফল তো রাজমহলে নিয়ে গেলে সবাই খুব খুশি হবে! এমন সুস্বাদু ফল তো কোথাও মেলে না।” রাজা আদেশ দিলেন, “এই গাছ পাহারা দাও। রাতের আঁধারে কেউ যেন ফল না নিয়ে যায়!” পাহারাদাররা চারদিকে ঘিরে রাখল গাছ। বাঁদররা বুঝতে পারল, বিপদ ঘনিয়ে এসেছে। যদি তারা গাছ থেকে বের হয়, রাজা ও তাঁর সৈন্যদের হাতে ধরা পড়বে। বাঁদর রাজা দলকে বললেন, “আমাদের এখন একসাথে কাজ করতে হবে। ওই নদী পার হলেই আমরা নিরাপদ। কিন্তু সবাই তো লাফ দিয়ে পৌঁছাতে পারবে না।” তিনি ভাবলেন, কীভাবে সবাইকে উদ্ধার করা যায়। রাজা ডাল থেকে ডাল লাফিয়ে নদীর উপরে চলে এলেন। তাঁর লেজ আর হাত পা মেলে নিজেকে সেতুর মতো করে ধরলেন। দলের বাঁদরদের বললেন, “তোমরা আমার শরীরের উপর দিয়ে নদী পার হয়ে যাও।” এক এক করে বাঁদরেরা রাজার পিঠ বেয়ে নদী পার হতে লাগল। ছোট ছোট বাঁদরগুলো ভয়ে কাঁপছিল, কিন্তু রাজা সবার সাহস বাড়িয়ে বললেন, “আমি আছি, ভয় পেয়ো না। সবাই পার হবে।” রাজা নিজের শরীরকে সেতু করে ধরে রেখেছিলেন। একে একে প্রায় সব বাঁদর পার হয়ে গেল। শেষে তার সবচেয়ে প্রিয় সঙ্গী, লালু, লাফিয়ে যাওয়ার সময় রাজার শরীরের উপর জোরে চাপ পড়ল। রাজা প্রচণ্ড ব্যথা পেলেন, কিন্তু মুখে কিছু বললেন না। তিনি জানতেন, দলের সবাই নিরাপদে পৌঁছানোই সবচেয়ে বড় কথা। সবাই যখন নদীর ওপারে পৌঁছে গেল, তখন রাজা ক্লান্ত ও আহত হয়ে নদীর কূলেই পড়ে রইলেন। রাজা ভরত চন্দ্র দূর থেকে পুরো ঘটনা দেখছিলেন। তিনি অবাক হয়ে ভাবলেন, “কী অবিশ্বাস্য আত্মত্যাগ! একজন রাজা নিজের প্রজাদের জন্য জীবন দিতে পারে—এ তো বিরল উদাহরণ।” রাজা দৌড়ে এসে বাঁদর রাজার মাথা কোলে নিলেন। বললেন, “হে মহাবলী, তুমি তোমার দলের জন্য যে আত্মত্যাগ করেছো, সেটি আমি কখনো ভুলবো না। তোমার শিক্ষা আমার মনকে বদলে দিলো।” বাঁদর রাজা ক্লান্ত কন্ঠে বললেন, “একজন সত্যিকারের নেতা নিজের প্রজাদের আগে রাখে। তাদের সুখই তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।” এই বলে রাজা চিরনিদ্রায় চলে গেলেন। ভরত চন্দ্র গভীর শ্রদ্ধায় মাথা নত করলেন। তিনি আদেশ দিলেন, বাঁদর রাজার জন্য বনের মাঝখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ গড়ে তোলা হোক, যাতে সবাই তাঁর আত্মত্যাগ মনে রাখে। এরপর থেকে রাজা ভরত চন্দ্রও নিজের প্রজাদের প্রতি আরও দয়ালু আর যত্নবান হয়ে উঠলেন। এ গল্প আমাদের শেখায়—নেতৃত্ব মানে শুধু আদেশ দেওয়া নয়, বরং সবচেয়ে বেশি দরকার হলে নিজের সব কিছু উৎসর্গ করে দলের পাশে দাঁড়ানো। আত্মত্যাগ ও সহানুভূতি সত্যিকারের নেতার পরিচয়। মোরাল: প্রকৃত নেতা নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দলের কল্যাণে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেন।

Reviews

5.0
1 reviews

Rate this story

Loading reviews...