এক দয়ালু মহিষের ধৈর্য ও এক দুষ্টু বানরের অশান্তি নিয়ে গড়া এই গল্প শেখায়, ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা জীবনের বড় গুণ।
0 PLAYS
0.0
by Storiyaa Editorial
About This Story
Story Transcript
অনেক বছর আগে, এক গভীর জঙ্গলে এক শান্ত ও দয়ালু মহিষ বাস করত। তার শরীর ছিল কালো, চোখে ছিল প্রশান্তির ছোঁয়া। প্রতিদিন সে নদীর ধারে সবুজ ঘাস খেত, নীরবে নিজের মতো থাকত। বনের অন্য প্রাণীরা তাকে খুব ভালোবাসত, কারণ সে কখনো কারো ক্ষতি করত না কিংবা কারো সঙ্গে ঝগড়া করত না।
একদিন, সেই জঙ্গলে এক চঞ্চল বানর এসে হাজির হয়। এ বানরটি খুব দুষ্ট এবং কৌতূহলী ছিল। সে কোনো কিছুতেই শান্তি পেত না—সবসময় দুষ্টামি করে বেড়াত। বানরটি গাছের ডালে ডালে লাফিয়ে বেড়াত আর অন্য পশুদের বিরক্ত করত। তার সবচেয়ে প্রিয় খেলা ছিল, অন্য কারো শান্তি নষ্ট করা।
এক দুপুরে, মহিষটি নদীর ধারে চুপচাপ ঘাস খাচ্ছিল। সেখানে এসে বানরটি মহিষের পিঠে লাফিয়ে পড়ল। মহিষ কিছু বলল না, শুধু একটু তাকিয়ে হাসল। বানরটি মহিষের শিং ধরে দুলতে লাগল, কখনো তার লেজ টেনে ধরল, আবার কখনো তার কানে কানে চিৎকার করল।
বানর হেসে বলল, “তুই এত চুপচাপ কেন? একটু খেল, না হয় আমাকে তোর পিঠে ঘোরা দে!"
মহিষ শান্ত গলায় বলল, “তুমি চাইলে আমার পিঠে ঘুরে বেড়াতে পারো, কিন্তু দয়া করে আমাকে আঘাত কোরো না।”
বানর এতেই খুশি হলো না। সে আরও বাড়াবাড়ি করতে লাগল। সে মহিষের পিঠে মাটি, শুকনো পাতা, এমনকি কাঁকরও ছুঁড়ে দিল। মাঝে মাঝে সে তার লেজে গিঁটও বেঁধে দিত।
মহিষ এইসব সহ্য করত, কিছু বলত না। সে ভাবত, "ছোট প্রাণী, হয়তো খেলার ছলেই এসব করছে। আমি যদি রাগ করি, তাহলে ঝগড়া হবে, বাড়তি ঝামেলা বাড়বে। ধৈর্য ধরাই ভালো।"
দিন চলে গেল, বানরের দুষ্টুমি বাড়তেই লাগল। একদিন, বানরটি মহিষের চোখের সামনে তার প্রিয় ঘাসগুলো ছিঁড়ে ছুড়ে দিল। তখনও মহিষ কিছু বলল না, শুধু নিজের মতো দাঁড়িয়ে রইল।
বনের অন্য পশুরা সব দেখতে লাগল। তারা ভাবল, “এত সহ্য করার কী দরকার? একবার ঝাড়ি দিলেই তো বানর পালাবে!”
ছোট্ট খরগোশ এসে মহিষকে বলল, “তুমি কেন কিছু বলছ না? বানরটা তো তোমাকে বিরক্ত করেই যাচ্ছে!”
মহিষ শান্ত স্বরে উত্তর দিল, “খরগোশ, বানরটি হয়তো বুঝতে পারছে না সে ভুল করছে। ওর সঙ্গে ঝগড়া করলেই শান্তি আসবে না, বরং সমস্যা বাড়বে।”
খরগোশ মাথা নেড়ে চলে গেল, কিন্তু বানরটা দূর থেকে এসব শুনে নাক সিটকালো। তার দুষ্টুমি আরও বাড়ল। এবার সে মহিষের কানে জোরে টান দিল। মহিষ একটু কেঁপে উঠল, কিন্তু কিছু বলল না।
হঠাৎ, নদীর পাশ দিয়ে এক বয়স্ক, জ্ঞানী হাতি এসে গেল। সে সব দেখছিল। হাতি বানরকে ডেকে বলল,
“তুমি কেন মহিষকে এভাবে কষ্ট দিচ্ছো? মহিষ তো তোমার কোনো ক্ষতি করেনি!”
বানর হেসে বলল, “ও তো কিছু বলে না, তাই ভাবি মজা নেওয়া যায়!”
হাতি গম্ভীর গলায় বলল, “এটা মজা নয়, অন্যকে কষ্ট দেওয়া খারাপ কাজ। মহিষের ধৈর্য আছে, কিন্তু তার মানে এই নয় তুমি ওর দয়া ও সহিষ্ণুতার সুযোগ নেবে।”
হাতির কথায় বানর একটু থমকে গেল। সে নিজের আচরণ নিয়ে ভাবল। সে বুঝতে পারল, সে মহিষের শান্তিকে অপমান করেছে।
বানর মহিষের কাছে এসে বলল, “ভাই, আমি ভুল করেছি। তোমাকে এতদিন কষ্ট দিয়েছি, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করো।”
মহিষ হাসিমুখে বলল, “ভুল করলে তা স্বীকার করাও সাহসিকতা। আমি তো তোমার ওপর রাগ করিনি।”
বানর এবার সত্যিই বদলে গেল। সে আর কোনোদিন কাউকে অকারণে বিরক্ত করেনি। মহিষের ধৈর্য আর সহিষ্ণ
এক দয়ালু মহিষের ধৈর্য ও এক দুষ্টু বানরের অশান্তি নিয়ে গড়া এই গল্প শেখায়, ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা জীবনের বড় গুণ।
0 PLAYS
0.0
by Storiyaa Editorial
About This Story
Story Transcript
অনেক বছর আগে, এক গভীর জঙ্গলে এক শান্ত ও দয়ালু মহিষ বাস করত। তার শরীর ছিল কালো, চোখে ছিল প্রশান্তির ছোঁয়া। প্রতিদিন সে নদীর ধারে সবুজ ঘাস খেত, নীরবে নিজের মতো থাকত। বনের অন্য প্রাণীরা তাকে খুব ভালোবাসত, কারণ সে কখনো কারো ক্ষতি করত না কিংবা কারো সঙ্গে ঝগড়া করত না।
একদিন, সেই জঙ্গলে এক চঞ্চল বানর এসে হাজির হয়। এ বানরটি খুব দুষ্ট এবং কৌতূহলী ছিল। সে কোনো কিছুতেই শান্তি পেত না—সবসময় দুষ্টামি করে বেড়াত। বানরটি গাছের ডালে ডালে লাফিয়ে বেড়াত আর অন্য পশুদের বিরক্ত করত। তার সবচেয়ে প্রিয় খেলা ছিল, অন্য কারো শান্তি নষ্ট করা।
এক দুপুরে, মহিষটি নদীর ধারে চুপচাপ ঘাস খাচ্ছিল। সেখানে এসে বানরটি মহিষের পিঠে লাফিয়ে পড়ল। মহিষ কিছু বলল না, শুধু একটু তাকিয়ে হাসল। বানরটি মহিষের শিং ধরে দুলতে লাগল, কখনো তার লেজ টেনে ধরল, আবার কখনো তার কানে কানে চিৎকার করল।
বানর হেসে বলল, “তুই এত চুপচাপ কেন? একটু খেল, না হয় আমাকে তোর পিঠে ঘোরা দে!"
মহিষ শান্ত গলায় বলল, “তুমি চাইলে আমার পিঠে ঘুরে বেড়াতে পারো, কিন্তু দয়া করে আমাকে আঘাত কোরো না।”
বানর এতেই খুশি হলো না। সে আরও বাড়াবাড়ি করতে লাগল। সে মহিষের পিঠে মাটি, শুকনো পাতা, এমনকি কাঁকরও ছুঁড়ে দিল। মাঝে মাঝে সে তার লেজে গিঁটও বেঁধে দিত।
মহিষ এইসব সহ্য করত, কিছু বলত না। সে ভাবত, "ছোট প্রাণী, হয়তো খেলার ছলেই এসব করছে। আমি যদি রাগ করি, তাহলে ঝগড়া হবে, বাড়তি ঝামেলা বাড়বে। ধৈর্য ধরাই ভালো।"
দিন চলে গেল, বানরের দুষ্টুমি বাড়তেই লাগল। একদিন, বানরটি মহিষের চোখের সামনে তার প্রিয় ঘাসগুলো ছিঁড়ে ছুড়ে দিল। তখনও মহিষ কিছু বলল না, শুধু নিজের মতো দাঁড়িয়ে রইল।
বনের অন্য পশুরা সব দেখতে লাগল। তারা ভাবল, “এত সহ্য করার কী দরকার? একবার ঝাড়ি দিলেই তো বানর পালাবে!”
ছোট্ট খরগোশ এসে মহিষকে বলল, “তুমি কেন কিছু বলছ না? বানরটা তো তোমাকে বিরক্ত করেই যাচ্ছে!”
মহিষ শান্ত স্বরে উত্তর দিল, “খরগোশ, বানরটি হয়তো বুঝতে পারছে না সে ভুল করছে। ওর সঙ্গে ঝগড়া করলেই শান্তি আসবে না, বরং সমস্যা বাড়বে।”
খরগোশ মাথা নেড়ে চলে গেল, কিন্তু বানরটা দূর থেকে এসব শুনে নাক সিটকালো। তার দুষ্টুমি আরও বাড়ল। এবার সে মহিষের কানে জোরে টান দিল। মহিষ একটু কেঁপে উঠল, কিন্তু কিছু বলল না।
হঠাৎ, নদীর পাশ দিয়ে এক বয়স্ক, জ্ঞানী হাতি এসে গেল। সে সব দেখছিল। হাতি বানরকে ডেকে বলল,
“তুমি কেন মহিষকে এভাবে কষ্ট দিচ্ছো? মহিষ তো তোমার কোনো ক্ষতি করেনি!”
বানর হেসে বলল, “ও তো কিছু বলে না, তাই ভাবি মজা নেওয়া যায়!”
হাতি গম্ভীর গলায় বলল, “এটা মজা নয়, অন্যকে কষ্ট দেওয়া খারাপ কাজ। মহিষের ধৈর্য আছে, কিন্তু তার মানে এই নয় তুমি ওর দয়া ও সহিষ্ণুতার সুযোগ নেবে।”
হাতির কথায় বানর একটু থমকে গেল। সে নিজের আচরণ নিয়ে ভাবল। সে বুঝতে পারল, সে মহিষের শান্তিকে অপমান করেছে।
বানর মহিষের কাছে এসে বলল, “ভাই, আমি ভুল করেছি। তোমাকে এতদিন কষ্ট দিয়েছি, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করো।”
মহিষ হাসিমুখে বলল, “ভুল করলে তা স্বীকার করাও সাহসিকতা। আমি তো তোমার ওপর রাগ করিনি।”
বানর এবার সত্যিই বদলে গেল। সে আর কোনোদিন কাউকে অকারণে বিরক্ত করেনি। মহিষের ধৈর্য আর সহিষ্ণ